বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা দরবার শরীফের জিকিরে ইমাম হুসাইন (রাঃ) মাহফিলে বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও লেখক সৈয়দ আহমদ বখত মতিন রচিত ‘ওজিফায়ে ইয়াদুল্লাহ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন এম. এ. হান্নান এমপি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা হাবেলিতে সৈয়দ হামিদ বখত ডুমন (রহঃ) মাজার প্রাঙ্গণে মোড়ক উন্মোচন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পরে, রাতব্যাপী জিকিরে ইমাম হুসাইন (রাঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহাসিক খান্দুরা হাবেলি আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন উৎসবে সভাপতিত্ব করেন, খান্দুরা দরবার শরীফের হাজিরাতুল কুদসিয়া, সৈয়দ মাসুদ বখত (কায়েদ)। প্রধান অতিথি ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, বিশ্ব লালন সংঘ’র পরিচালক লেখক ও সুফি গবেষক আবদেল মান্নান, সৈয়দ সোহেল আব্দাল, সৈয়দ সাজ্জাদ মোরশেদ শুভ, চাপরতলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ ভুঁইয়া, বিএনপি নেতা নূরে আলম ও যুবদল নেতা মো. জামাল প্রমুখ।
‘ওজিফায়ে ইয়াদুল্লাহ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই গ্রন্থটি সুফিপ্রেমী সাধারণ পাঠকদের আত্মিক খোরাক জোগাবে। বইয়ের উদ্দেশ্য মানুষের মাঝে প্রতিফলিত হলে লেখক স্বার্থক হবে আর ইহকাল ও পরকালে সফল হবো আমরা।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে বলেন, সৈয়দ আহমদ বখত মতিন একজন প্রতিযশা বহুমাত্রিক লেখক। তিনি ইতিহাস ঐতিহ্য ও সুফিজম নিয়ে লিখা একাধিক বই মানুষের জ্ঞান তৃঞ্চা মিটাচ্ছে। সদ্য প্রকাশিত বইয়ে ‘আমল ও দিকনির্দেশনাগুলো দৈনন্দিন জীবনে মেনে চললে দু’জাহানে সফল হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমি লেখকের দীর্ঘ্যায়ূ ও সুস্থতা কামনা করি। পরিবারসহ ওমরাহ পালনে যাচ্ছি, আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি।
উল্লেখ্য, লেখক সৈয়দ আহমদ বখতের প্রকাশিত ‘মহাকালের আয়না’, ‘পাকপাঞ্জতন’, ‘চিশতীয়ার কিস্তি’ এবং ‘খানায়ে দাওরা হতে খান্দুরা’ গ্রন্থগুলো পাঠকমহলে সমাদৃত।
পরে, মোড়ক উন্মোচন শেষে রাতব্যাপী জিকিরে ইমাম হুসাইন (রাঃ) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল হাদীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়েকেরাম আলোচনা করেন।
এসময়, খান্দুরা হাবেলীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন হবেলি ও দরবার শরীফের পীর মাশায়েখ, মুরীদ ভক্তানুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। বুধবার ভোরে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।