সাব্বির আহমদ মানিক, বাজিতপুর থেকেঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পৌর শহরসহ কৈলাগ, দিঘীরপাড়, বলিয়াদী, দিলালপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াই নিচু কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্টিল বডির নৌকায় নদী থেকে বালু এনে বিভিন্ন নিচু এলাকায় ফেলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের আইনগত অনুমোদন ছাড়াই এসব ভরাট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কের ওপর দিয়ে বড় আকারের পাইপ বসিয়ে বালু পরিবহন করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সড়কের ক্ষতি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ অবস্থায় বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গত দুই দিন ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দিলালপুর, বলিয়াদী, দিঘীরপাড়, কৈলাগ ইউনিয়ন এবং বাজিতপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বসানো বালু পরিবহনের পাইপ অপসারণ ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহিনুর মিয়া (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়।
পরে তাকে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এভাবে জলাশয় ও নিচু এলাকা ভরাট অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, “কেউ যদি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে বালু আনলোড করে, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। তবে অধিকাংশ স্থানে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে।”