নিকলী প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বিস্ফোরক আইনের মামলায় রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার দুপুরে নিকলী সদরের পুরাতন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি নিকলী পুরাতন বাজার খেয়াঘাট এলাকার মৃত সুন্দর আলী মুন্সীর ছেলে। নিকলী উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নোয়াপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান নোয়াপাড়া হাওরে ৪৮ একর চাকিঢোয়ার বিল ইজারা নিয়ে মাছ শুরু করেন। পরে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় কৃষকের শত শত একর জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। কৃষকরা বাধা দিলে দখলদাররা কৃষকদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও তারা ছাত্রদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
গ্রেফতার রুহুল আমিন এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি জানান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, রুহুল আমিনের ছেলে মাসুদ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন তিনি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষাইটধার দক্ষিণ হাটি গ্রামের হাজী তাহের আলীর (উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুনের চাচা) বাড়িতে ফাঁকা গুলি করে ত্রাস সৃষ্টি করেন মাসুদ। এছাড়া তালাবপাড়ের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের (নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার তৎকালীন ওসি) বাড়িতে গুলি করেন মাসুদ। গুলিতে তিনটি রাজহাঁস মারা যায়। নিকলী পুরাতন বাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি হিন্দু বাড়িও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রুহুল আমিনকে গ্রেফতারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অবৈধ অস্ত্রধারী মাসুদকেও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।