1. admin@dainikujanvati.com : Hbm Khairul : Hbm Khairul
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মাইজভান্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ! অবগত নন প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস তাড়াইলে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবেঃ ইউএনও তানজিলা আখতার ভৈরবে অনুমোদনহীন মশার কয়েল কারখানা: বিএসটিআইয়ের অভিযানে ৫ লাখ টাকা জরিমানা হোসেনপুরের গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িঃ ইতিহাস, ঐতিহ্য, নির্মাণ স্থাপত্যে গৌরবোজ্জল এক অধ্যায় সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি বিআরজেইউ’র তাড়াইলে কাওমি শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা মিঠামইন উপজেলার চারিগ্রামের কৃতি সন্তান তৈমোর হোসেন খান মহামান্য রাষ্ট্রপতির এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের দুটি সরকারি হাসপাতালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১৭ দালাল আটক কিশোরগঞ্জে পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার করতে না পারলে এমপি পদ ছেড়ে দিবো-বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড, ফজলুর রহমান এমপি

ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মাইজভান্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ! অবগত নন প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস

  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

মেধাবৃত্তির নামে সাধারণ কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মাঝে ধর্মের নামে কৌশলে নিজেদের মাইজভান্ডারী তরিকার মতবাদ প্রচার করলেও এসব বিষয়ে অবগত নন স্থানীয় শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেন মাইজভান্ডারী ফাউন্ডেশন। এসব কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিআইআরআই), মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব।

এর আগে ২০২৫ সালে ভৈরবে প্রথমবারের মতো ১২তম গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
২০২৬ সালের এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রাইমারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মাদ্রাসা এবং ভোকেশনালের ৪র্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত প্রায় সাড়ে তিনশো কোমলমতি ছাত্র ছাত্রী। প্রতিষ্ঠানটির ১০ কক্ষে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০জন সহকারী শিক্ষক।

কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের সদস্য ইউনূস আলমগীর। পূর্ণমান-১০০ নাম্বারের ১ঘন্টা ৩০ মিনিটের পরীক্ষার সিলেবাসে ৪র্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষায় বাংলা-২০, ইংলিশ-২০, গণিত-২০, মেধা বিকাশ-১৪, নৈতিক শিক্ষা-১৪ এবং তাদের প্রসপেক্টাসে অর্তভুক্ত অষ্টম অধ্যায়ের মাইজভান্ডারী প্রবন্ধ থেকে-১২ নম্বর। তাছাড়া ভোকেশনালের ক্ষেত্রে মাইজভান্ডারী প্রবন্ধ থেকে রাখা হয় ১০ নম্বর। এই মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন ফরমের ফি নেয়া হয় ১৮০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের খন্ড কালীন শিক্ষক রাব্বি মিয়া ও মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারী আগানগর গ্রামের সুরুল্লার বাড়ির সজিব মিয়া ভৈরবের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাইজভান্ডারী তরিকার অনুসারী কিছুসংখ্যাক সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেধাবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন। প্রশাসনকে না জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রায় ২৫টি স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা এই বিতর্কিত বৃত্তির বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে অবগত করেই বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়ে যায় শিক্ষার্থীদের। ওই কেন্দ্রে ১০টি রুমে সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয়। অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন ফরম পুরণের আগে সহকারী শিক্ষকরা স্ব স্ব প্রধান শিক্ষককে অবগত করলেও নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষকরাও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেননি।

এদিকে জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাবু তাপস চন্দ্র বিশ্বাসও তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিতর্কিত মেধা বৃত্তির আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি। অন্যদিকে আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান মাইজভান্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও কোন ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন নেননি।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কী ধরনের শিক্ষা বা আদর্শ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

তাছাড়া পরীক্ষায় সরকারি কারিকুলামের সঙ্গে যেন কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ বা আকিদা প্রচার করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না করা হয়। তাদের দাবি, ধর্মের নাম তাদের নির্দিষ্ট তরিকায় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে মেধা বৃত্তির আয়োজন করা হলেও এই কার্যক্রমের অন্তরালে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ স্থানীয় প্রশাসনের।

কক্ষ পরিদর্শক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিছুর রহমান সাদেক জানান, এখানে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা চট্টগ্রাম থেকে আয়োজন করা হয়েছে। মাইজভাণ্ডারী প্রচারণা ও প্রসারের জন্যই এই মেধা বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কক্ষ পরিদর্শক ও ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে এই বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার বৃত্তি। প্রশ্নের মান খুব ভালো এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

এ বিষয়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস আলমগীর বলেন, সিলেবাসের মধ্যে স্কুল-কলেজে পড়ানো বইয়ের পাঠ্যসূচি থেকে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা রয়েছে। এছাড়া নৈতিক শিক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্নও রয়েছে। আমরা যারা আয়োজন করেছি, তারা মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধের ওপর ১২ নম্বরের প্রশ্ন রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, যিনি আধ্যাত্মিক শরাফত সৃষ্টি করেছেন, তিনি হলেন সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী। তাঁর জীবনীর ওপর আমরা কিছু প্রশ্ন রেখেছি। এ ধরনের প্রশ্ন কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দরবার শরীফ সম্পর্কে জানার জন্য এসব প্রশ্ন করা হয়েছে। দরবারে যেসব ভালো কাজ হয়, সেগুলো সম্পর্কে জানার জন্য এবং দরবার যে সবসময় ভালো ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আছে, তা জানানোর জন্য এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ধর্মীয় বিষয় হওয়ায় এবং বন্ধের দিন থাকায় সভাপতি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছি। এর আগে গত বছরও প্রথমবারের মতো এভাবেই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি, যেটা সত্য, সেটাই বলছি। আর প্রসপেক্টাসে কী আছে, সেটিও আমি পড়ে দেখিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন এখান আর করতে পারবেনা।

ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে মুঠোফোনে বলেন, এটা তো অবশ্যই আমাদের সিলেবাস বহির্ভূত। এ ধরনের আয়োজন তারা কীভাবে করেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদেরও বিষয়টি জেনে-শুনে শিক্ষার্থীদের পাঠানো উচিত ছিল। যেহেতু আমাদের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, এটি কোনো নীতিমালার মধ্যেও পড়ে না। প্রধান শিক্ষকদের উচিত ছিল আয়োজনের পূর্বে প্রশাসন বা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা জানা।

হলিডের দিনে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, এটি অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়। তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা থাকতে পারে। আমার ধারণা, কোনো গোষ্ঠী হয়তো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক আয়োজন করেছে। এটি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত এবং শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিসার কিংবা আমরা কেউই এ বিষয়ে অবগত নই।

বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। তবে যেহেতু এটি একটি তরিকাপন্থী প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, সেহেতু তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই ধরণের আরও নিউজ