নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্টীয় অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ উঠেছে ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’) মাখন চন্দ্র সুত্রধরের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৫ আগষ্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রকৃত অংশীজনদের বাদ দিয়ে একপেশেভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জামাত এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করেন রাষ্টীয় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে সব পক্ষকে যুক্ত করা উচিত ছিল।
কিন্তু কোন অদৃশ্য ইশারার কারণে তিনি এমনটি করছেন তারও খোঁজ নেয়া একান্ত প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিষয়টি ফ্যাসিষ্টের সাথে কোন যোগসাজশ আছে কি না তাও ক্ষতিতে দেখার দাবি জানান।
আমন্ত্রণ না পাওয়ার অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ অনুষ্ঠানে অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের পাশ কাটিয়ে চরম বৈষম্য অপমানজনক সীমিত পরিসরে দাওয়াত দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতার জুলাই যোদ্ধাদের অনেককেই আমন্ত্রণ না দেওয়ার পাশাপাশি জামাত এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের কাউকেই দাওয়াত দেয়নি ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সুত্রধর।
এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা জামায়াত ইসলামির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ নুরুল্লাহ বলেন, স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে ইউএনও কিভাবে কার প্ররোচনায় এরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তাঁর জবাব দিতেই হবে। এখন তো মনে হয় তাঁর সঙ্গে ফ্যাসিষ্টের যোগসাজশ রয়েছে। এবিষয়েও ইউএনওর বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।
আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের ইটনা উপজেলা শাখার সভাপতি উত্তম কায়েস বলেন, এটা চরম অপমান জনক। ইউএনওকে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে জবাব দিতে হবে। কেন রাষ্ট্রীয় একটি দিবসে তিনি এমনটি করেছেন। আমার তো সন্দেহ হয় তিনি কি পলায়নকারী ফ্যাসিষ্টের কোন অনুচর নয় তো!
এনসিপির ইটনা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আফজাল হোসেন শান্ত বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান। আর ইটনার ইউএনও এই চরম ফ্যাসিষ্টের আচরণ বৈষম্য করেছেন আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে। এখন আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য গণঅভ্যুত্থান পরাজিত শক্তির সহায়ক হিসেবে তিনি কাজটি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন সারাদেশসহ কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে প্রায় সকল উপজেলায় জুলাই কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা মিটিং দাওয়াত পেলেও ইটনা উপজেলা কোন প্রকার দাওয়াত পায়নি। তিনি আসার পর থেকে উপজেলায় সংগঠিত এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা খতিয়ে দেখা দরকার। কার ইশারা এ রকম হচ্ছে?
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সুত্রধর মুঠোফোনে বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ দিয়েছি। তবে জামাত এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদকে আমন্ত্রণে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি এমপি স্যারের সাথে কথা বলব। তাছাড়া এখন আমি ডিসি স্যারের সাথে জুম মিটিংয়ে আছি।
যদিও তখন রাত ৯ টা ঘড়ির কাঁটার সময় ঠিক ঠিক করছিল।