মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন থেকেঃ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামে মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সুধী সমাজের উদ্যোগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সভায় বক্তারা মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন এবং মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য গ্রামের সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে সচেতন করতে সভায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন শিকদার তার বক্তব্যে মাদকের কারণে কীভাবে পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসছে তা তুলে ধরেন এবং এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ কোরবান আলী বলেন, “যে স্বপ্নের দেশ গড়তে আমরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম, সেই দেশের যুবসমাজকে মাদকের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। এদের রুখতে হবে।”
মোহাম্মদ সাদেক সরকার মাদকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক বয়কটের ওপর জোর দেন।
ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মোতালেব এবং লোকমান হোসেন তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, মাদকের সাথে জড়িত থাকলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপি’র ঘাগড়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আইয়ুব মিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মাদকের বিরুদ্ধে তিনি আহ্বান জানান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় মাদকের কুফল এবং এর ফলে সমাজে বেড়ে যাওয়া চুরির চিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন ”মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সন্তানরা আজ মায়ের গলার চেইন, বোনের গহনা কিংবা ভাইয়ের মোবাইল পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় রাতের বেলা এক পাড়ার যুবকদের অন্য পাড়ায় ঘোরাঘুরি করতে দেখলে বা কোনো প্রকার সন্দেহজনক আচরণ পেলে তাদের ধরে সরাসরি প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
অভিভাবকদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বক্তারা বলেন “আপনাদের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। যদি আপনারা তা না করেন, তবে আমরা বাধ্য হব প্রশাসন দিয়ে অভিভাবকদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে। তাদের এই বলিষ্ঠ বক্তব্যকে উপস্থিত সকলেই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
মাদকবিরোধী শপথ ও সিদ্ধান্ত উন্মুক্ত মাঠে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ, যুবক ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষাংশে সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এলাকায় কোনো প্রকার মাদক বিক্রি বা সেবন করতে দেওয়া হবে না।
গভীর রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের তথ্য সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
সবশেষে, চমকপুর গ্রামকে সম্পূর্ণ ‘মাদক মুক্ত’ ও একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার যৌথ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।