নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে যুবসমাজকে বাংলা গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে। তাছাড়া কিশোরগঞ্জ শিল্পভিত্তিক জেলা নয়, এটি একটি কৃষিনির্ভর জেলা। তাই কৃষিকে কেন্দ্র করেই উন্নয়নের পরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ কৃষিকে শিল্পে পরিণত করবো।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন-এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই অর্থ ফেরত আনা গেলে উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এখন আর কোনো দুর্বৃত্ত কারো ভোটে হাত দিতে পারবে না। কেউ কোনো ক্ষতি করতে এলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের বাধা বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, জাতি পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অনেকে বলেন জামায়াতের সরকার হবে বা ইসলামি দলের সরকার হবে। আমরা জামায়াতের সরকার চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের সরকার চাই।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জি এস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। ছয়টি আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে লক্ষাধিক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন।
বক্তব্য শেষে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ-৩, কিশোরগঞ্জ-৪ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দেন তিনি।