নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সারাদেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবিতে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০ ঘটিকায় নিকলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট নিকলী উপজেলার আয়োজনে এবং কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন (সিআরইএ) প্রকল্পের সহযোগিতায় রামিসা ধর্ষণ,শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং বিচারহীনতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সামাজিক নীরবতা এবং দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ বিচার ব্যবস্থার ভয়াবহ প্রতিফলন। অপরাধীরা বারবার আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যাওয়ায় সমাজে ধর্ষণ ও সহিংসতার সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা, বৈষম্যহীনতা এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, সুরক্ষা, মর্যাদা ও সহিংসতামুক্ত জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। অথচ বাস্তবতায় দেশের শিশু ও নারীরা প্রতিনিয়ত ভয়, সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর শত শত নারী ও শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। বহু ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদন্ত ও সামাজিক চাপের কারণে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজে আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো অপরাধী যেন ক্ষমতা, অর্থ বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ছাড় না পায়। ধর্ষক ও শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করতে হবে।”
উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক আবীরের সভাপতিত্বে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মী, নারী নেত্রী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য রাখেন জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোটের সহ-সভাপতি আয়ুব আলী মাস্টার, জোটের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম, জেসমিন আক্তার, সাংবাদিক জয়দেব আচার্য্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ আরও বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে। তারা বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে কোনো শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে মরবে না, কোনো নারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না-এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
রামিসা হত্যার দাবীতে নিকলী উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ছোট ছোট কোমল মতি শিশুরা রাস্তায় নেমে এই জঘন্যতম হত্যার তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবী জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট।