মোঃ আব্দুস ছলিম, বাজিতপুর থেকেঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সামান্য পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় বিপ্লব (২৮) নামে এক অটোরিক্সা চালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিপ্লব কৈলাগ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার একটি দীর্ঘদিনের চলাচল-অযোগ্য সড়ক নিজ উদ্যোগে মেরামত করেন বিপ্লব। তিনি নিজের শ্রম ও খরচে মাটি ও বালু ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। পরবর্তীতে ওই সড়ক ব্যবহারকারী অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে মেরামতের খরচ বাবদ প্রতিবার যাতায়াতে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক চাইছিলেন।
এ নিয়ে কয়েকদিন আগে একই এলাকার এক চালকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরিবারের দাবি, তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কয়েকজন যুবক বিপ্লবকে মারধর করে। পরে বিকেলের দিকে অটোরিক্সা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাংলাবাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিপ্লবকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিহত বিপ্লব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। রেখে গেছেন চার বছর বয়সী এক কন্যা ও কোলে থাকা এক দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামান্য কয়েক টাকার জন্য একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল্লাহ জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনা আর না ঘটে।