বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ)’র আয়োজনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণ ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ) আয়োজিত দেশনেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি আশির দশকের ছাত্রনেতা আবুল কাসেম চৌধুরী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, বিএফইউজের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক মোঃ মোদাব্বের হোসেন, কৃষক দলের শাজাহান সম্রাট, সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি-সিবিসাস এর সভাপতি আবুল কালাম, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, শাহরুল ইসলাম রকি, প্রদীপ কুমার পাল প্রমুখ।
বিআরজএ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও বিআরজেএর মহাসচিব এসএম তাজুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্বরনসভায় লিখিতভাবে খালেদা জিয়ার জীবনী উপস্থাপন করে সাংবাদিক মোঃ নুরুল হোসেন কাইয়ুম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রাম ও দেশ পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী ৯ বছরের সংগ্রাম, বিএনপির উপর নির্যাতন-জুলুম, অত্যাচারের কথা। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা পদে পদে ষড়যন্ত্র করে ছিলেন। ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের মাইনাস টু ফরমুলার ১/১১ ভেস্তে গিয়েছিল আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়ার জন্য। এক পর্যায়ে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা দেন এক পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে।
ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন গংরা খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর উপর চালিয়েছিল গ্রেফতার-নির্যাতন। দেশনেত্রীকে গ্রেফতার করে শেখ হাসিনা ক্ষমতার আসনে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, গ্রেফতার শুরু করে। এতে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষান্ত হয়নি, শেষ পর্যন্ত দেশনেত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পাতানো আদালতের রায়ের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করে। দেশনেত্রী বিশ্বের গণতন্ত্রকামী নেতা হিসেবে স্থান পায়।
এশিয়া অঞ্চলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এত বড় ত্যাগ কোন নেতা বা নেত্রী করেনি, যা দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া করেছেন। এ দেশে ক্ষমতায় গিয়ে সংসদীয় প্রথা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস, প্রমান করেছে বেগম খালেদ জিয়া একজন দেশপ্রেমিক, যার ভরসাই ছিল দেশের জনগণ। যার প্রমাণ দেশনেত্রীর জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি।
যতদিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে ততদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম থাকবে গণতন্ত্রের মা হিসেবে।
বক্তারা আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী তারেক রহমান। আজ দেশের মানুষ তার অপেক্ষায়, তারেক রহমান যে স্থানে জনসভা করছে সেখানেই লাখ লাখ মানুষের ঢল নামছে, প্রমাণিত হচ্ছে বাংলাদেশে জনসমর্থনের শীর্ষে এখন বিএনপি ও তারেক রহমান। নিন্দুকেরা যতই মিথ্যাচার করুক জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে উচিৎ শিক্ষা দিবে।