করিমগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে উম্মে মুসলিমা যোগদানের পর মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতায় স্থানীয় উপজেলা কার্যক্রমে এক নতুন গতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর সততা, দক্ষতা ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক জবাবদিহিতার কারণে স্থবিরতা কেটে গতি ফিরতে শুরু করেছে প্রতিটি দপ্তরে।
করিমগঞ্জে যোগদানের পূর্বে উম্মে মুসলিমা নরসিংদী জেলায় সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরও আগে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড থাকাকালীন ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং গ্রাহকসেবা সহজ করতে বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।
মাঠ প্রশাসনে তাঁর পূর্বের এই দৃঢ় ও দুর্নীতিবিরোধী ইমেজ করিমগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিমধ্যে এক বিশাল ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি স্থানীয় প্রশাসনিক উইংগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তাঁর বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে তিনি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধারে ও করিমগঞ্জ বাজারে আনসার পুলিশ দ্বারা যানজট নিরসনে তাঁর জোরালো ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষার মানবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করাসহ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করছেন তিনি।
ইউএনও উম্মে মুসলিমার এই ইতিবাচক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে করিমগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মাহবুবর আলম খোকন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“উম্মে মুসলিমা করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনের কাজের মধ্যে একটা দৃশ্যমান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাজার মনিটরিং এবং সাধারণ মানুষের জন্য ইউএনও অফিসের দরজা উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি প্রশংসনীয়। বণিক সমিতির সভাপতি হিসেবে আমরা আশা করি, তাঁর এই সততা ও কর্মদক্ষতা আগামী দিনেও করিমগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা মিসবাহ উদ্দিন প্রশাসনের এই গতিশীলতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা যে সুশাসনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, মাঠপর্যায়ে উম্মে মুসলিমার মতো সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা থাকলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি যোগ দেওয়ার পর থেকেই উপজেলার সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশাসনের এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আমি স্বাগত জানাই এবং তাঁর সব ভালো কাজের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে।”
ইউএনও উম্মে মুসলিমার প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও সৎ উদ্যোগের ফলে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও গতিশীল হবে। একজন যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তার হাত ধরে করিমগঞ্জ উপজেলা একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হবে-এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।