বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী সরকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ ও সরজমিন অনুসন্ধান জানা যায়, তিনজন ইউপি সদস্যের (মেম্বার) কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে সরকারি প্রকল্পের ১০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন তিনি।
সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সম্প্রতি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ঈদের আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষ সংস্কারসহ গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা করে মোট ৫টি প্রকল্প তৈরি করেন ইউপি প্রশাসক ইদ্রিস আলী। তিনি একইসঙ্গে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই তিন ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে তাদের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নেন প্রশাসক। এরপর পুরো টাকা তিনি নিজেই ব্যাংক থেকে তুলে নেন। এর মধ্যে বাহাদিয়া ও চরদেওকান্দি এলাকায় চারটি রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে একটিতে আংশিক কাজ হয়েছে। অন্যদিকে, চেয়ারম্যানের কক্ষে রঙের কাজ দেখিয়ে ২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে ‘বাহাদিয়া এরশাদের বাড়ি থেকে মহিবুরের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিং নির্মাণ’ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ইটের রাস্তাটি দুই মাস আগেই নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পুরোনো কাজকে নতুন প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি’র ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই রাস্তাটি দুই মাস আগে করা হয়েছে। এখানে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের কিছু নেই। তাকে যে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
তবে ‘বাহাদিয়া ফকির বাড়ি থেকে আতাহারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাটের’ আরেকটি প্রকল্পে তিনি কাজ করছেন বলে জানান। কিন্তু সেই প্রকল্পের ২ লাখ টাকার কোনো অংশই এখনো তিনি পাননি।
বাহাদিয়া ফজর আলীর বাড়ি থেকে রফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ এবং ‘চর দেওকান্দি জামে মসজিদ থেকে নসিবড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবুল কাশেম জানান, একটি প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে তার কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নেন প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী। কত টাকার কাজ, সেটিও তাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, পরে জানতে পারি আমার নামে চার লাখ টাকার দুটি প্রকল্প দাখিল করে প্রশাসক নিজেই টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. খোরশেদ উদ্দিনেরও। তিনি বলেন, ঈদের আগে প্রশাসক মহোদয় আমাকে বলেন, কিছু টাকা পাওয়া গেছে, চেয়ারম্যানের কক্ষটি রং করা হবে। এজন্য আমার কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নেন। কত টাকার কাজ করা হবে, সেটিও আমাকে বলা হয়নি। পরে জানতে পারি চেয়ারম্যানের কক্ষ রং করার জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।
টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত প্রশাসক। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এগারসিন্দুর ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী সরকার বলেন, ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে টাকা বরাদ্দ পাই। এজন্য তড়িঘড়ি করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে একজনের কাছে জমা রাখা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, প্রকল্পের সরকারি টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।