মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, ভৈরব থেকেঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কয়লার ধোয়াঁ আর ধূলো ময়লায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসীসহ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরম ব্যাহতসহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ ও গাছপালা।
শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দাবী বিদ্যালয় ও কেপিআই এলাকা থেকে কয়লা অন্যত্র সরিয়ে শিক্ষাঙ্গনসহ এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
ভৈরবে রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ও মেঘনা নদীর পাড়ে কে পি আই এলাকায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কয়লা মজুদ করেছে ব্যবসায়ীরা। এতে কয়লা থেকে নির্গত কালো ধোয়া ও এ্যামুনিয়া গ্যাস এবং বাতাসে কয়লার ধূলো স্কুলের ক্লাস রুমে ঢুকে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান ব্যাহতসহ আশ-পাশের গাছপালা নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয় মেঘনা পাড়ে রেলওয়ে কলোনীসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও এসব শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশ মারাত্মক দূষণ হচ্ছে। তাই পরিবেশ দূষণ রোধে ও উদীয়মান ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য কয়লা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবী জানান।
তবে ব্যবসায়ীরা জানান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মোকাম এ কয়লার ব্যবসা। ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা থেকে জাহাজে করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কয়লা ভৈরবে আমদানী করা হয়। এখান থেকে সড়ক ও নৌ-পথে দেশের বিভিন্ন জেলার ইট ভাটায় কয়লা সরবরাহ করা হয়। এ পেশার সাথে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। কিন্ত কয়লা মজুদ করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারনে তারা রেলওয়ে ভূ’-সম্পত্তি বিভাগ থেকে জায়গা ভাড়া এনে কয়লা মজুদ করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে গণমাধ্যম জানান, কেপিআই এলাকায় রেলওয়ের ভূ’-সম্পত্তি বিভাগ কৃষি লীজ কিভাবে দিলো ? কৃষি লীজ এনে ব্যবসায়ীরা দাহ্য পদার্থ রেখে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করছে। তাই পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে এবং শিক্ষার্থী ও জনগণের সুস্থ জীবন
-যাপনের জন্য এ স্থান থেকে কয়লা সরিয়ে নিতে সরকারের কাছে দাবী জানান ।
এ বিষয়ে ভৈরব বাজার ঘাটের রেলওয়ে উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কয়লা মজুদ রাখার কারনে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। তাই কয়লা সরিয়ে নিতে কয়লা সমিতির সভাপতি/সম্পাদককে গত ৩০ অক্টোবর লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তাছাড়া রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তানিয়া বেগম, মুনিরা বেগম, পারভেজ মিয়াসহ বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের পাশে কয়লা মজুদ করায় কয়লা থেকে নির্গত কালো ধোয়া ও এ্যামুনিয়া গ্যাস এবং বাতাসে কয়লার ধূলো স্কুলের ক্লাস রুমে ঢুকে তারা শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশি এলার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান ব্যাহতসহ আশ-পাশের গাছপালা নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। সরকার যেন দ্রুত এখান থেকে কয়লা অপসারণ করে অন্যত্র সরিয়ে নেয় ।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, কয়লার ধূলা-বালিতে কেপিআই এলাকাসহ আশপাশের পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। কিভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কেপিআই এলাকা লীজ দেয় ?
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, কয়লার বিষাক্ত ধোয়াঁ থেকে শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যানসারও হতে পারে। তাই পরিবেশ দূষণ মুক্ত ও শিক্ষার্থীদের রোগ মুক্ত রাখতে এ স্থান থেকে কয়লা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারের কাছে দাবী জানান।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে কে পি আই এলাকায় কয়লা ব্যবসায়ীরা জায়গা রেলওয়ে থেকে লীজ এনে কয়লা মজুদ রাখছে। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।