1. admin@dainikujanvati.com : Hbm Khairul : Hbm Khairul
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেলাবোতে উপজেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন কালীগঞ্জের ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম ইটনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাজিতপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীর মাও. ওমর ফারুক’র ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, মাদক-সন্ত্রাস দমনের দাবি কটিয়াদীর চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামী মহরম আলী গ্রেপ্তার ১৯৯তম ঈদুল আযহার ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে পুনঃস্থাপন সাবেক প্রধানন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম ফলক ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দাবিতে নিকলীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভৈরবে স্কুল ফিডিংয়ে পঁচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ, ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা-প্রতিকারের দাবি

  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, ভৈরব থেকেঃ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা ডিম, নিম্নমানের কলা ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উদ্বীগ্ন অভিভাবকরা।

গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা খাবারে পঁচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত রুটি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব খাবার সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়েও একই ধরনের নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ভৈরব উপজেলায় ৯১টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। তবে শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থী ওবায়দুল, শুভ ও জিহাদ’দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পঁচা ছিলো। এছাড়া ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পঁচা। সিদ্ধ করার সময় পঁচা ডিম ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। যা কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়।

অভিভাবক মো. আলমগীর বলেন, সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে অনেকগুলোই পঁচা পাওয়া গেছে। রুটিতেও ছত্রাক ছিল। এসব খাবার খেয়ে আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের কিছু হলে দায় কে নেবে? তিনি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, শিশুদের জন্য সরকারের এত ভালো একটি উদ্যোগকে এভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। যারা এই নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। সেই সাথে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই ভালো কিছু শিখবে, সুস্থ থাকবে এই আশায়। কিন্তু সেখানে যদি পচা খাবার দেওয়া হয়, তাহলে এটা খুবই উদ্বেগজনক। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা বেগম বলেন, প্যাকেটজাত হওয়ায় সরবরাহের সময় ত্রুটি বোঝা যায়নি। বিতরণের সময় বিষয়টি ধরা পড়লে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাই। তারা ভবিষ্যতে ভালো মানের খাবার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে নষ্টগুলির ব্যাপারে কোন কথা শুনে নাই।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বেশ কিছু বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। কোনোভাবেই নষ্ট বা পঁচা খাবার শিশুদের দেওয়া যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই ধরণের আরও নিউজ