নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন “বিজেসি”র উপ-ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে লীজকৃত বিজেসি’র জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার মাত্র দুই মাস পরই দাবিকৃত অনৈতিক সুবিধার সমোদয় অর্থ দিতে দেরি করায় লীজগ্রহিতার লীজ বাতিল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে সরজমিন অনুসন্ধান ও কাগজ পত্রের আলোকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় অবস্থিত বিজেসির মঠখোলা ক্রয়কেন্দ্র নামীয় ৩.১০ একর সম্পত্তি অবকাঠামোসহ ১৯টি শর্তে ২৩/০২/২০২৬ হতে ২২/০২/২০২৯ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য নীতিমালার আলোকে লীজ নেন জনৈক আজহারুল ঠাকুর।
সেই আলোকে চুক্তিপত্র সম্পাদনা প্রদান করেন বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান এর পক্ষে উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মাকছিম বিজেসি-ঢাকা। তারই প্রেক্ষিতে উপ-ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম লীজগ্রহিতা মোঃ আজহারুল ঠাকুরকে দখল বুঝিয়ে দেন।
সেই সাথে অত্যন্ত চতুরতার সাথে উপ-ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম লীজগ্রহিতা মোঃ আজহারুল ঠাকুরকে লীজকৃত ভূমিতে একটি পরিত্যক্ত পুকুরকে মাছ চাষের উপযোগী করতে মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অন্যদিকে তিনি তাঁর ঘুষের টাকা তরিৎ নিতে তরি ঘরি করতে থাকেন।
অন্যদিকে লীজগ্রহিতার লোকজনও লীজকৃত জায়গাতে কাজ শুরু করেন। সেই সুযোগে ডিজিএম ইব্রাহিম তাঁর অনৈতিক (ঘুষের) লেনদেনের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ পরিশোধ করেন লীজগ্রহিতা।
সময়মতো ঘুষের টাকা না দেয়ার কারণে সুচতুর ডিজিএম পাকুন্দিয়া সহকারী কমিশনার ভূমিকে বারবার ফোন করে সরকারি জায়গার মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। জানা যায়, তখন পাকুন্দিয়ার এসিল্যান্ড একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। তখন তরিঘরি করে ওয়াটসাফে এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মাটি বিক্রির। তৎক্ষনাৎ এসিল্যান্ড ভাড়াটিয়ার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং লীজ গ্রহিতার শ্রমিকদের না পেয়ে ভেকুর ব্যাটারী জব্দ করেন। পরে লীজগ্রহিতা বৈধলীজের কাগজপত্র নিয়ে গেলে উক্ত ডিজিএমের মৌখিক অভিযোগ প্রত্যাহারের ভিত্তিতে সবকিছুই চাড়িয়ে আনেন।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী লীজগ্রহিতা মোঃ আজহারুল ঠাকুর গণমাধ্যম বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকল সরকারি অর্থাধি পরিশোধ করে লীজ নিয়েছি। দখলও ভূঝিয়ে দিয়েছে। সবকিছু শেষে ডিজিএম ইব্রাহিম সাব ১০ লাখ টাকা অনৈতিক দাবি করলে আমি ভয়ে তাকে ১ লাখ টাকা দেই। তিনি আমাকে ১০ লাখ টাকার হুমকি দিয়ে ১ লাখ টাকা নিয়েও এসিল্যান্ডের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হয়রানি করছেন। যাহার সকল ডকুমেন্টস আমার কাছে রয়েছে । তবে তিনি ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন।
গণমাধ্যমের হাতে আসা তিনটি অডিও রেকর্ড ও সরজমিন অনুসন্ধান করে আরও জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এই জায়গাটি ডিজিএম উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে ভাড়া দিয়ে মোটা অন্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাঁরা মূখখোলার ভয়ে এখন তিনি এসব নাটক করছেন। জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ ও ঈশ্বরগঞ্জেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মোঃ ইব্রাহিম সাহেব বারবার আমাগে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে মোবাইলে অভিযোগ করতে থাকেন। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বললে, তিনি ওয়াটসাফে একটি অভিযোগ দেন। আমি গিয়ে কাউকে না পেয়ে ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করে নিয়ে আসি। পরদিন মৌলিকভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। আমি লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বলি এখন পর্যন্ত তিনি লিখিত দেননি। অপরদিকে লীজগ্রহিতা তার বৈধতার কাগজপত্র নিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগের ব্যাপারে বিজেসির উপ-ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম বলেন, এগুলো সত্য নয়, তবে অডিওর রেকর্ডে কোন
ঘুষের টাকার কথা হয়নি। টাকা ফেরতের অডিওর ব্যাপারেও তিনি বলেন, ঘুষের টাকা ফেরত দেইনি। আর এগুলো আমার বয়েজ কিনা সেটাও দেখতে হবে।