মো: আব্দুস ছলিম, বাজিতপুর থেকেঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর খাদ্যপণ্য বিতরণের সময় নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগে এক ডিলারের গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
গত বুধবার (৪ মার্চ) সকালে সরারচর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার সিয়াম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল মালেক প্রায় ১৬০০ সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, চিনি ও ছোলা বিতরণ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে কিছুক্ষণ ভালো মানের চাল বিতরণ করা হলেও পরে অত্যন্ত নিম্নমানের ও খাদ্যোপযোগী নয় এমন চাল বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় বিতরণ করা চাল পরীক্ষা করে নিম্নমানের চালের সত্যতা পাওয়ার পর ডিলারের গুদাম সিলগালা করা হয়।
অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর এলএসডি’র ওসি সিহানুর রহমান, সরারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম, ভাগলপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম, থানা পুলিশের সদস্য, গ্রাম পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তদন্তকালে বিতরণকৃত চালের সঙ্গে এলএসডি গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে বাজিতপুর এলএসডি’র ওসি মো. ইউসুফ বলেন, “আমার গুদাম থেকে কোনো নিম্নমানের চাল ডিলারকে দেওয়া হয়নি। সরবরাহ করা চালের নমুনা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।”
অন্যদিকে ডিলার মো. আব্দুল মালেকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “যে নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে সেটি আমার ডিলারসিপের নয়। ওই চালের জন্য আলাদা ডিলার রয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিম্নমানের চালের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার দায় প্রমাণিত হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সুবিধাভোগীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।