1. admin@dainikujanvati.com : Hbm Khairul : Hbm Khairul
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ ৫০ টি চোরাই যাওয়া ও হারানো মোবাইল উদ্ধার ও হস্তান্তর করেছে ইটনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে এসএসসি ব্যাচ-২০২৬ এর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৫ শিশুকে দেওয়া হবে হাম-রুবেলা টিকা সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.ফজলুর রহমান এমপির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে মোঃ এনামুল মোল্লা নিয়োগ পেলেন চুরি ও মাদকরোধে সরারচর বাজারে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ এফ এম সিদ্দিকীকে-সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবুর অভিনন্দন ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব’র আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত ভৈরবে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

ভৈরবে সিজারিয়ান অপারেশনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ! থানায় লাশ রেখে ৪ লাখ টাকায় রফাদফা!!

  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

ভৈরব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় ঝুমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

মৃত্যুর পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৃহবধূর মরদেহ নেয়া হয় ভৈরব থানায়। থানায় লাশ রেখেই বিকেলে ৪লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে জানান রোগীর স্বজন রাশেদ মিয়া।

রোগীর স্বজনরা জানান, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝুমা বেগম নামে একজন গৃহবধুর সিজার অপারেশন করেন ডা: হরিপদ দেবনাথ। ওই রোগীকে এনেস্থিসিয়া দেন ডা: রাজীব। গৃহবধূ একটি পুত্র সন্তান জন্মদেন। রাতে ১০টার দিকে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। পরদিন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তার জানান রোগীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে, তাকে বাঁচানো অনেকটা কঠিন।

শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মৃত্যুবরণ করেন। নিহত ঝুমা বেগম পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে ও উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকার তৌফিক মিয়ার স্ত্রী।

এ বিষয়ে রোগীর চাচা রাশেদ মিয়া জানান, আমার ভাতিজিকে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমরা বলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অপারেশন করা জন্য। কিন্তু চিকিৎসক ডা. হরিপদ বলেন পরীক্ষা লাগবে না। বৃহস্পতিবার রাতে অপারেশন করার কয়েক ঘণ্টা পর ঝুমার অবস্থা খারাপ হয়। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান রক্ত লাগবে। সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হলেও ঝুমার কোন উন্নতি হয়নি। পরদিন শুক্রবার সকালে চিকিৎসক জানান রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে। আমরা অস্বীকৃতি জানালে আমাদের রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাপ দেন। আমরা বলেছি আমাদের রোগীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন আমরা রোগী ঢাকায় নিবো না। চিকিৎসকের চাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার বলে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা কম। তারপরও আমরা সঠিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করি। শনিবার বেলা ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমা মৃত্যু বরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি ভৈরবের চিকিৎসককে মৃত্যুর কথা জানালে তিনি বিষয়টি আপোষ করতে বলেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কামনা করি। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিষয়টি শনিবার রাতে রাশেদ মিয়া স্বীকার করেন থানার একটু দূরে ৪ লাখ টাকায় আপোষ করা হয়েছে। ভৈরব থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আবু তালেবের কাছে লিখিত দিলে লাশ নিয়ে যেতে বলেন। পরে লাশ নিয়ে যায়। রাতেই লাশ দাফন করা হবে বলে জানান।

নিহতের শাশুড়ী রিনা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূকে ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ভৈরবের ডাক্তার সিজার করতে গিয়ে ঝুমার জরায়ু কেটে ফেলেছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। এজন্য ঝুমার মৃত্যু হয়েছে। আমরা শিশুটিকে কিভাবে মানুষ করবো। আমি ঝুমা হত্যাকারীদের বিচার চাই।

এ বিষয়ে ট্রমা এণ্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ঝুমাকে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছিলেন ডা. হরিপদ দেবনাথ। অপারেশনের পর মা বাচ্চা অনেক ভাল ছিল। অপারেশনের পর রাতে হঠাৎ ঝুমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আমাদের ডাক্তারগণ রক্ত দেয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। শুক্রবার সকালে আবারো রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসক রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। রোগীর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে শুনতে পাই ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।

ডা: রাজীব বলেন, তিনি এনেস্থিসিয়া দেন। আর ডা: হরিপদ দেবনাথ সিজার করেন। রোগী ফ্রেশ ছিলো। ভুল চিকিৎসা হয়েছে কিনা সেটা বলতে পারছেননা।

এ বিষয়ে কথা বলতে ডা. হরিপদ দেবনাথকে একাধিক বার ফোন করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে ভৈরব থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আবু তালেব বলেন, লাশ থানার বাহিরেই ছিলো। বিষয়টি ওসি স্যারকে জানালে তিনি এসে রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলবেন জানায় আমাকে। স্বজনদের লিখিত রেখে লাশ দিয়ে দেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রোগীর মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই ধরণের আরও নিউজ