নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কেবল একটি সামাজিক আন্দোলন নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ গঠনের এক অবিরাম অভিযাত্রা। সেই মহৎ অভিযাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সাহস, ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া দুইজন কর্মীকে সম্মানিত করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ভৈরব শাখা।
নিসচা ভৈরব শাখার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত রজতজয়ন্তী উৎসব ২০২৬-এ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইজন অকুতোভয় ও নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীকে প্রদান করা হয় মর্যাদাপূর্ণ “শ্রেষ্ঠ সড়কযোদ্ধা অ্যাওয়ার্ড”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এমপি।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব রায়হান কাওছার, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নিসচার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এবারের শ্রেষ্ঠ সড়কযোদ্ধা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন নিসচা ভৈরব শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক, দক্ষ সংগঠক ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রায়পুরা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ইমরান হোসাইন এবং একই শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক, নারী নেত্রী, মানবতাবাদী ও দেশপ্রেমিক সমাজকর্মী সাবিনা ইয়াসমিন।
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদান নিসচা পরিবারের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। নিরলস পরিশ্রম, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণে নিবেদিত কর্মতৎপরতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ সম্মাননা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তি নিহিত রয়েছে এমন সব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে, যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। ইমরান হোসাইন ও সাবিনা ইয়াসমিনের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং সমগ্র নিসচা পরিবারের জন্য গৌরবের এবং নতুন প্রজন্মের সড়কযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নিসচা ভৈরব শাখার পক্ষ থেকে দুই শ্রেষ্ঠ সড়কযোদ্ধাকে জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, তাঁদের এই স্বীকৃতি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মযজ্ঞে নতুন মাত্রা যোগ করবে।