নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের আবহে উৎসবমুখর পরিবেশে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।
রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ণিল সাজে সজ্জিত প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিকদের মিলনমেলা নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে এম নাসিম খান। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে ক্লাবের সকল সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। নববর্ষের এই আয়োজনে বাঙালির হাজার বছরের পুরনো খাদ্যাভ্যাসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সকালের নাস্তায় অত্যন্ত পরিপাটি করে পরিবেশন করা হয় দই, চিড়া, মুড়ি, খৈ, আখের গুড় ও কদমা-বাতাসাসহ দেশীয় ঐতিহ্যের নানা সুস্বাদু উপকরণ। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততাকে দূরে ঠেলে সাংবাদিকরা গ্রামীণ জনপদের এই চিরাচরিত খাবারের স্বাদ ও আড্ডায় মেতে ওঠেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সভাপতি এ কে এম নাসিম খান বলেন: “বাংলা নববর্ষ আমাদের আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই ঐতিহ্যই আমাদের ভ্রাতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করে। কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব বরাবরই বাঙালির গৌরবময় সংস্কৃতিকে ধারণ করতে বদ্ধপরিকর। আজকের এই আয়োজন আমাদের মধ্যকার পেশাগত ও ব্যক্তিগত বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমার বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও প্রাক্তন সংবাদকর্মীরা এবং সাধারণ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আনন্দঘন ও ঘরোয়া পরিবেশে সকালের নাস্তা পর্ব শেষে সকলে একে অপরের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ প্রেসক্লাবের এই ব্যতিক্রমী এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ের কৃত্রিমতার ভিড়ে এমন দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পহেলা বৈশাখের প্রকৃত গুরুত্ব তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
পুরো আয়োজনটি ঘিরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর এবং প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়, যা কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক মহলে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।