মাইনুল হক মেনু, কটিয়াদী থেকেঃ
সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মো. বাচ্চু মিয়া (৩৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। সন্তানদের মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। পিতার মৃত্যুতে সন্তানরা নির্বাক হয়ে পড়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মো. বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে। মিসাইল হামলায় তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
জানা যায়, রবিবার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশটির আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে মো. বাচ্চু মিয়াসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। অপর নিহত ব্যক্তির বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে। এ ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির কাছাকাছি একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার রাতেই বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়ে পরিবার ও স্বজনরা।
সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভাব- অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাচ্চু মিয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই প্রাণ হারালেন তিনি। বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি ঘরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী জোছনা আক্তার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুতে তার বাড়িতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। জরাজীর্ণ ঘরে বসে স্বামীর জন্য বিলাপ করছেন স্ত্রী জোছনা আক্তার। পাশে বসে পিতার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে সন্তানরা। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন জানান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বিষয়টি সার্বিকভাবে খোঁজখবর রাখছেন। দলের পক্ষ থেকেও আমরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, বাচ্চু মিয়ার পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। খবর পেয়ে আমরা সকালে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।