রুহুল আমিন, তাড়াইল থেকেঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা।
গত দুই দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক দোকানেই বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে তেলের আশায় এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন চালকরা। কোথাও কোথাও সামান্য তেল থাকলেও তা পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) তাড়াইল সদর বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেলের আশায় মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় লেগে আছে বিভিন্ন দোকানে। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, দুটি দোকানে ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরব কীভাবে বুঝতে পারছি না। মোটরসাইকেল চালক মাঈনুল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে তেলের জন্য এভাবে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘোরাঘুরি করা খুবই কষ্টকর।
মেহেদি হাসান নামে এক যুবক বলেন,এই সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার উদ্দেশ্যে জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। পাশাপাশি উপজেলায় কোনো সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেলের পাম্প না থাকায় স্থানীয় বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এ সুযোগে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে কয়েকজন জ্বালানি তেল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত দুই দিন ধরে বাইরের পাম্প থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।